সুব্রত চক্রবর্তীর কবিতা

১.

ছুই নেবো না

না বাতাস, না স্রোত, না নৌকা।
জানালার অবারিত শিশু মেঘগুলো

সিঁড়ির পর, সিঁড়ির পর, সিঁড়ি
থাকে থাকে টব, ছবি, বই, সব ব্যবহার্য
                                     যত্নে রাখা আছে

কয়েকটা বসন্ত যাক, তারপর এসো
ধুলো ঝেড়ে,  সাবধানে,  ভাঙ্গা কাঁচে হাত দিও কিন্তু;

সব ঘরে ( একে যদি ঘর বলো)
থরে থরে অগোছালো তোমাকেই পাবে।

২.

যদি গ্রাস করতে চাও, করো
মুন্ডুটা বাইরে রেখো, বাতাসে সাঁতরাক
তার হাতপাখা,  কিছুটা আরাম পাবে

কবিতামোহন, তাকে যদি চিনতেই না পারি
কীভাবে নিজের করে  নিজেকে মেলাব তার সাথে!

'মৃত্যুযান ও অন্যান্য কবিতা' থেকে
দুই টুকরো

৩.

শয্যা যার শত শরমুখ, তিনি কি জীবিত, না মৃত?

প্রশ্ন তাকে বিদ্ধ করে, আবার করে করেও না
কর্তব্যরহিত তির মহাশূন্যপথে চলে যায়

সেই শূন্য অনাত্মীয়, চিরপরিচয়হীন
মাথার উপরে থেকে ছায়া দেয়, স্নেহ দেয়, পরিত্রাণ দেয়।

৪.

ধর্মগান প্রবোধ-বাতাস বেয়ে চলে যায় দূর থেকে দূরে

পথের কিনারে যার শব, সে-ও দেখো
এইমাত্র সন্ধ্যারতি সেরে
ফিরে যাচ্ছে, পায়ে তার নৃত্যরত ক্লিষ্ট আদিরস

আঁকতে আঁকতে নেমে যায় খাদের কিনারে
সেখানে সতর্ক চাঁদ গৃহবাস খুলে রেখে উপাস্য হয়েছে




Comments

Popular posts from this blog

গৌতম বসু : কবি ও কবিতা

আবির গোস্বামীর কবিতা

সিতাংশু গোস্বামীর কবিতা