গৌতম বসু : কবি ও কবিতা

হাসি মুুুুখে কবি
কবি গৌতম বসুএকালের কবিকণ্ঠ সম্মাননা অনুষ্ঠানে কবি



কবি গৌতম বসুকে নিয়ে কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত লিখেছেন... 
              তোমার নতুন কবিতাগুচ্ছ 
               দেখবার আশে দু-তিন দশক
               অপেক্ষা করি, তারপর যেই
                গিরিশিলা থেকে কয়েক স্তবক

                মুক্তধারায় মঙ্গলালোক 
                 নেমে আসে যার ভিতরে উহ্য 
                 মানবনিয়তি, আগামী কবিতা 

 কবি গৌতম বসু (জন্ম ১৩ মে ১৯৫৫ মৃত্যু ১৮ জুন ২০২১ ) সত্তর দশকের উল্লেখযোগ্য কবি। তাঁর প্রথম কবিতা মুদ্রিত আকারে প্রকাশ পায় "শতভিষা" সাহিত্য পত্রিকায়। প্রথম পর্বের অপ্রকাশিত কবিতা নিয়ে প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই "অন্নপূর্ণা ও শুভকাল"।এর পর থেকে প্রকাশিত হয়েছে 'অতিশয় তৃণাঙ্কুর পথে'(১৯৯১),  'রসাতল' (২০০১), 'নয়নপথগামী' (২০০৭) এবং 'স্বর্ণগরুড়চূড়া' (২০১৩)। প্রকাশিত প্রথম চারটি বই নিয়ে ২০০৮ সালে কবীর প্রকাশনা থেকে প্রকাশ পায় একটি কবিতা সমগ্র। পরে অবশ্য পাঁচটি কবিতার বই ও বেশ কিছু অগ্রন্থিত কবিতা নিয়ে ২০১৫ সালে আদম প্রকাশনা থেকে প্রকাশ পায়  'কবিতা সংগ্রহ'। তারপর আরও দু'টি কবিতার বই প্রকাশ পায়। বইগুলি হল 'মঞ্জুশ্রী' (২০১৬) ও 'জরাবর্গ' (২০১৮)। তিনি বেশ কিছু মূল্যবান প্রবন্ধও লিখেছেন বিভিন্ন সময়ে।সেগুলি নিয়েও প্রকাশিত হয়েছে  'গদ্যসংগ্রহ' (2019)। এছাড়াও তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে "শ্রেষ্ঠ কবিতা : দেবদাস আচার্য" (২০০৫),  ও ভূমেন্দ্র গুহ-র সঙ্গে যৌথভাবে "সঞ্জয় ভট্টাচার্যের কবিতা" (২০১৩)। 

গৌতম বসুর কবিতা

১.
বারাসাত লোকাল

পাখিরা খুঁটে-খুঁটে জল খায়
জলের রক্তমাংস দেখি, 
অন্তরাল তবু বিদ্ধ নয়, দুর্গানগর বিদ্ধ, নতশির 
মহারণে ও প্লাবনে মেঘের কোেল ভেসে যায়। 
পাখি, শুনেছি তোমার দেহ অনন্তপথের ধূলায়
অনন্তবর্ষণে বিভোর, বায়ুগৃহে ফিরে যেতে চায় বলে 
ওই স্খলিত পালক আপন দুঃখে ভর করে ওড়ে,
তোমার পালকের, তোমার স্পর্শ না পাই, এ-জানালায় হাত রাখি 
একটি গহন স্বরের মৃত্যুর ও জন্মের দেখা যেন মেলে, মনে-মনে।

২.
অন্নপূর্ণা ও শুভকাল 

আর নয়, অন্ধ-বিক্রেতার থেকে ধূপ কেনার সুযোগ নষ্ট হয়েছে 
একে চন্দ্র, দুইয়ে পক্ষ, তিনে নেত্র, অন্তরীক্ষ-পাশায় খাটে 
তৃতীয়টি অধুনা যষ্টির পরচুলায়, দিন আনে, খায়
মাঝির সংসার দুলে চলেছে। 
নদীর চাহনির আশায় স্থলের মানুষ বলে 
তাকাও, তাকাও, অন্তত কোনও ইঙ্গিত 
আমরা অগ্নিপুত্র, ক্ষণিক – অবিকল এইভাবে
উড়োজাহাজের উদ্দেশে বন্যার্ত আবাদ থেকে হাহাকার উঠেছে। 
শিকল দেখে আবার মনে পড়ল শব্দের কথা 
শিকল রূপান্তরিত জল, সব দর্শক যখন অতীত 
তখনও অনেক ভূমিকা থেকে যাবে 
এই জল প্রকৃত শ্মশানবন্ধু, এই জল রামপ্রসাদ সেন।

৩.
পৃষ্ঠা

শত যোনিদেশ, সহস্র রক্তস্নানের কূলে
তাঁরে দেখেছি, কথা ফুরানোর দিগন্তরেখা,
ঘনঘোর কৃষ্ণকায় নিয়তি, আমার দিকে
হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলো সেই ছেঁড়া গ্রন্থের
ছেঁড়া পৃষ্ঠার ছেঁড়া পংক্তির ছেঁড়া শঙ্খধ্বনি।
আলোর রথ এসে থেমেছে পথশিশুদের
শিশিরভেজা বিছানায়, এবার তবে যাই
পাগলের চটিজুতো মাথায় পরিয়ে দিয়ে
যারা আমায় নিয়ে চলেছে, তাদের কীভাবে 
বোঝাই, আমিই বধ্যভূমি, আমিই শ্মশান। 

৪.
বইমেলায়, প্রথম শনিবার 

খড়ের মতো শুকনো ঘাসে এসে দাঁড়িয়েছি
আমার শবাধারে অজস্র পেরেক গাঁথার
অবিরাম ধ্বনি আকাশজুড়ে খেলে বেড়ায়,
একশত কবিতার বিষে নীলবর্ণ দেহ
কেন ধারণ করবে তুমি, ফেলে দাও দূরে, 
ছিঁড়ে ফেলো ক্ষমার অযোগ্য এই পাপাচার।
আদেশ আসে, ছেড়ে চ'লে যাই লক্ষনৌ নগরী
বলো মন, ডানাভাঙা পাখি, অবশেষে এলো 
সুদিন, ওড়ো, উড়াল দাও দূষণের পিঠে
গ্রন্থ হ'তে মুক্ত হলাম, বিধি, গ্রন্থমেলায়। 

৫.
পাহাড়

শেষতম কথাগুলি এবার নিবেদন করি নিভৃতে 
নীরব একটা সুর যেন বইছে শরীরের মাঝারে
এখান থেকে খুব সামান্যই দেখতে ও শুনতে পাই;
আমি দেখতে চাই, তিনি ঊর্ধ্বে তাকালেন অনেকক্ষণ 
তারপর, আঁচল দিয়ে মুছিয়ে দিলেন এই কপাল। 
দু'মুহূর্তের তরে মেঘ স'রে যাক, আমি দেখতে চাই
মুক্তিরেখা, খোলো দুয়ার খোলো খোলো, খোলো দুয়ার খোলো, 
আপনার আত্মক্ষয়ী নৃত্যকলা দেখে-দেখে, নটরাজ,
ভস্ম হলো আঁখি; বহু, বহু দূর থেকে আরও দেখলাম 
অনন্তকালের ঘুমের মধ্য থেকে গোবর্ধন পাহাড়,
আমায় ডাকছে।



*উপরিউক্ত কবিতা গুলি কবি গৌতম বসুর কবিতার বই থেকে নেওয়া। নানা ভুল-ত্রুটি হতেও পারে। *


"কারু২০২১" সম্পাদিকা : কনিকা পাল হোয়াটসঅ্যাপ ৯৭৪৯১৬২১৭৫

Comments

Popular posts from this blog

আবির গোস্বামীর কবিতা

সিতাংশু গোস্বামীর কবিতা