অভিমান্য পালের কবিতা
১. রস
মাঝে মাঝে নিজেই হাঁটি
শরীর জুড়ে নগর সংকীর্তন
তবু যেতে থাকি তিলক চন্দন এঁকে
উত্তরীয় গায়
২. সম্পর্ক
দীর্ঘপথ মানে শুধু
লালমাটি, ক্ষমাহীন প্রান্তর নয়...
কোথায় লুকিয়ে আছে মেথিডাঙ্গা বাঁধ
তার পাড়ে হিজলের ঝোপ থেকে
অচেনা পাখির ডাক
৩. উপহার
তোমার ক্ষতচিহ্ন ঘিরে রাখে
জীবনের সেই দশদিক
শুধু তাঁত বোনার আনন্দে
ছুঁয়ে চলি মনোছায়া---
যখন খুলছি এক একটা সিরিজ
সব পোড়ে মেদ মাংস হাড় ও কঙ্কাল...
উপহার পুড়ে যায় কলমীরজলে
একবার এসো এই দিকে
৪. সুর
বর্ষার মেঘ আকাশ পাল্টায়
ছাতার পাশে পাখির আওয়াজ
ঘুম ভাঙে আয়নার ডাকে
বেজে ওঠে সকালের নিদ্রাভাঙা সুর
৫. পিয়ন
কে যেন সকাল সকাল
মিথ্যে আয়ু নিয়ে চলে যায় পিয়নের মতো
চিঠির ঘ্রাণ ভেসে ওঠে
চলমান ছায়ায়
বেজে ওঠে সকালের নিদ্রাভাঙা সুর
৬. আয়না-রোদ
জানলায় ঝুলে থাকে কৃষ্ণ কালো মেঘ
তুমি কি পোশাক বদলে
তার মধ্যে খেলাঘর রচো?
ভয় হয় কবিতার মতো
তূমিও কি প্রকাশিত হবে
চোখের ভেতরে দেখি
লুকোনো জটিল ভাষা তার,
আয়না-রোদ পাখিদের সংসার
সব খুব স্বাভাবিক খুব স্বাভাবিক
৭. কবিতার অন্তরালে
তোর কথা মনে এলে ঘুম আসে না।
কবিতা লিখতে গিয়ে শুধু তোর নাম লিখি অরণ্য ছায়ায়
তারপর মিছিমিছি---
হাওয়া ফুলে যন্ত্রণার কারুকাজ লিখি...
৮. কাজললতা পাখি
পুকুরের জল, কলমির শাক, হাঁস চই চই...
হরিতকির ডালে দোল খাচ্ছে
বাতাসের বাহানা
শঙ্খ বাজাও... দূরাগত স্বরে
বসে থাকবে সাঁঝবেলাটির পাশে
তুমি...
আমার কাজললতা পাখি
৯. দূরবীন
ভিতরে আবছায়া ছিল
সবুজ হরিণ বনে,
পৃথিবী ভেসে গেল নীল কুয়াশায়
ক্রমশ জটিল হয় জলেশ্বর মন্দিরের আপন
ভাবি, আকাশের নিচে... দাঁড়িয়ে দূরবীন
দেখা সহজ।
১০. আপস
মৃত্যু বুকে নিয়ে কথারা
ভেসে যায় নদীর ওপর দিয়ে
মেঘের করুন নীল দেখে তারা ভাবে আর
টুপটাপ ঝরে পরে সেই জলে
১১. শামুক
শামুকের মতো চলে যাব
অনুযোগহীন
যে ঘরে তুমি আছো অথচ নেই
সেই ঘরে সবকিছু পরিপাটি থাক
আমি তবে যাই
১২. অন্তিম
অন্ধকার ছুঁয়েছে তারা
আলো হয়ে আছে মৃত্যুপথ
জানলা রঙের শরীর। বুঝতে পারি সেই পথে
হারাব একদিন
Comments
Post a Comment